হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরাকি পার্লামেন্টের সদস্য মুহাম্মাদ হুসাইন ইরাকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি ইরাক সরকারের প্রতি এ ধরনের হস্তক্ষেপের অবসান ঘটাতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলের রুট দ্রুত পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান।
হুসাইন বলেন, “ইরাক একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম রাষ্ট্র। বিদেশি কোনো আধিপত্য কিংবা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।”
তিনি আরও বলেন, “বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া ওয়াশিংটনের কাছে অযৌক্তিকভাবে নতি স্বীকারেরই প্রমাণ। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
ইরাকি এই সংসদ সদস্য জোর দিয়ে বলেন, “আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়ে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে ইরাকের একটি সার্বভৌম বিষয়। এটি দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং এ ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি ইরাকের নির্বাহী বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান নিতে হবে এবং দেশের আকাশসীমাকে কোনোভাবেই বৈরী নীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
এর আগে ইরাকি পার্লামেন্টের ‘ইমার ও উন্নয়ন’ (আল-ইমার ওয়াত-তানমিয়া) জোটের মুখপাত্র ফিরাস আল-মুসলামাভি ইরানের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের পরিণতি নির্ধারণে ‘সমন্বয় কাঠামো’ (আল-ইতার আত-তানসিকি)-এর নেতাদের নেতৃত্বে শিগগিরই একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, ইরানের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত বিষয়টি ওই জোটের নির্ধারিত বৈঠকের প্রধান আলোচ্যসূচি হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি সোমবার অথবা মঙ্গলবার রাতে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আপনার কমেন্ট